দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা পটুয়াখালী বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) তাদের ২০৩০ সালের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরটি আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। পরিকল্পনার আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক নেভিগেশন ও লাইটিং ব্যবস্থা স্থাপন এবং নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
পটুয়াখালী বিমানবন্দর চালু হলে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীতে আকাশপথে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এবং পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের গুরুতর রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানীতে স্থানান্তর এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রকৌশলীদের যাতায়াতেও বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পটির সফলতা নির্ভর করবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফল, পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা, এয়ারলাইন্সের আগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন সক্ষমতার ওপর।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী বিমানবন্দরটি ১৯৮০ সালের পর থেকে কার্যক্রমহীন রয়েছে। দীর্ঘদিন পর পুনরায় এটি চালুর উদ্যোগ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরই এর প্রকৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।